“মাদ্রসার ইতিহাস”
নাটোর জেলাধীন গুরুদাসপুর উপজেলার অন্তর্গত মশিন্দা শিকারপাড়া ফাযিল মাদ্রাসাটি চলন বিলের প্রান্তে আত্রাই নদীর দক্ষিণ তীরে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। প্রায় ৫ (পাঁচ) একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসাটি ১৯৩৯ সনে রহমানিয়া মাদ্রাসা হিসাবে যাত্রা শুরু করে দিল্লীর রহমানিয়া মাদ্রাসা ফারেগ মরহুম মাও.আজগার হোসাইনের তত্বাবাধানে মরহুম মাও. আব্বাস আলী সাহেবের পৃষ্ঠপোষকতায় চলতে থাকে। ১১-০৩-১৩৪৩ বাংলা ১৯৩৯ ইং সালে আল্লামা আব্দুল্লাহেল কাফী আলকুরাইশী(র:)এর নেতৃত্তে মশিন্দা শিকারপাড়া,শিকারপুর,বাহাদুরপাড়া,মশিন্দাচড়পাড়া,কান্দিপাড়া,রাণীগ্রাম,চর ধামাইচ,চরকুশাবাড়ী,ধারাবারিষা,কাটেঙ্গা,হাঁসমারী,ধূলাউড়ী, গোপালপুর,মেরীগাছা,গুনাইহাটী,মহারাজপুর,পোয়ালশুরা, চামটা,মারিয়া, সরিষাহাটী,চাঁচকৈড়,হাসুপুর প্রভিতি গ্রামের আহলে হাদীস সমাজভুক্ত মুসলমানগণ সম্মিলিতভাবে মাওলানা মো: আব্বাছ আলী সাহেবকে সভাপতি করে একটি “ওল্ড স্কীম” মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫০ সালে আলিয়া নেছাবে দাখিল মাদ্রাসায় রুপান্তর করে। ১৯৫৭ সালে দাখিল,১৯৬০সালে আলিম ও ১৯৬৫সালে ফাযিল মাদ্রসা হিসাবে মন্জুরী লাভ করে। মরহুম মাও: বাহাউদ্দিন সাহেবের তত্ত্বাবধানে দাখিল স্তরের যাত্রা শুরু হলেও তাঁর সুযোগ্য ছাত্র মরহুম মাও:মাযহারুল ইসলাম সাহেব এ প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন এবং তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় মাদ্রাসাটি ফাযিল পর্যায়ে উন্নিত হয়। ২০০৯/১০ সেশনে কামিল ক্লাশ চালু করে অনুমতি লাভের লক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিদর্শন করানো হয়েছে। ছাত্র সংখ্যা, ফলাফল, অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার বিবেচণায় ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃক মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্র হিসাবে দাখিল, আলিম,ফাযিল ও বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসাবে সফলতার সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে।স্বশিক্ষার গুণগতমান,মেধা তালিকায় প্রায়ই অত্র মাদরাসার ছাত্র/ছত্রীরা স্থান পেয়ে আসছে। সে বিবেচনায় ১৯৮৯ সালে মাদ্রাসাটি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা হিসাবে পুরুস্কৃত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৮সনে বাংলাদেশের ৩০টি মডেল মাদ্রাসার অন্যতম ১টি মডেল মদ্রাসা হওয়ার গৌরব আর্জন করে। ১টি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী, ১টি বিজ্ঞানাগার ও ২০টি কম্পিউটার সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব আছে। ছোটবড় ১১টি কক্ষ বিশিষ্ট ত্রিতল ভবন প্রাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া নিজ অর্থায়ণ ও সরকারী বিশেষ সুবিধায় ৩টি হল রুমসহ ১৮ কক্ষ বিশিষ্ঠ মূল দ্বিতল ভবন ও ১১ কক্ষ বিশিষ্ঠ আধাপাকা ভবন ও ৩ কক্ষ বিশিষ্ঠ পাকা ভবন আছে যাহার মধ্যে বড় ৬টি রুমে ছাত্রাবাস ও ৫টি রুমে ছাত্রী নিবাস আলাদা তৈরী করা হয়েছে। যেখানে ৫০/৬০ জন চাত্র/ছাত্রী অবস্থান করছে। সেখানে প্রায় ৩০ বছর যাবৎ লিল্লাহ বোডিং নামমাত্র ব্যায় গ্রহনের মাধ্যমে মেধাবী/দরিদ্র এতিম ছাত্র/ছাত্রীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দানবীরদের অবদানে ৩৭.৮০ একর আবাদী জমি বিদ্যমান। তাছাড়া প্রতি বছর জনগনের সহায়তায় মাদ্রাসার আর্থিক অভাব দুর হয়ে থাকে। বিশাল খেলার মাঠ,পুকুর এবং চতুর্পাশে মেহগনি, আম,জাম,কড়ই, নারিকেল, সুপারী গাছের সম্ ছায়ায় মাদ্রাসার সৌন্দর্য শতগুন বর্ধিত হয়ায় তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বৃক্ষরোপন অভিযানে পুরুস্কৃত হয়ে নগদ ১৮০০০/০০টাকা,সনদ এবং ক্রেষ্ট অর্জন করে।
যথাযথ তত্ববধানে এ মুহুর্তে ৩১ জন দক্ষ শিক্ষক কর্মচারী ৬০০/৭০০ ছাত্র/ছাত্রী শিক্ষা লাভ করে আসছে। গত ২০১১ইং সনে ধাখিল ২জন গোল্ডেন সহ১৩ জন ছাত্র/ছাত্রী দাখিল পর্যায়ে এ প্লাস লাভ করে নাটোর জেলার শ্রেষ্ঠত্তের গৌরব অক্ষুন্ন রেখেছে।
“অর্জন"
প্রাচীন এ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ৭০ বছরের সাধনার ফসল হিসাবে অত্র গুরুদাসপুর উপজেলার ২০ টি মাদ্রাসার প্রায় সব সবক”টি মদ্রাসা প্রধান সহ অধিকাংশ মাওলানা- মুহাদ্দিস এ মাদ্রাসার কীর্তিমান ছাত্র/ছাত্রী। এমনি বাংলাদেশে শতাধিক প্রতিষ্টানে অধ্যক্ষ,উপাধ্যক্ষ এবং সচিব,বিশ্ববিদ্যারয়ের কন্ট্রোলার,ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার সহ বাংলাদেশের বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত হয়ে এ মাদ্রাসার পরিচয় দেয়াকে নিজেদের গৌরব মনে করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গৌরবের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮৯ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা, বৃক্ষ রোপনে জাতীয পর্যায়ে পুরুস্কার অর্জন এবং ২০০৮ সালে মডেল মাদ্রাসা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং ৩১টি মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের প্রশিক্ষনে প্রথম হয়ে সরকারী সফরে অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফর রহমান ইন্দোনেশিয়া যান।
প্রতি বছর শতশত ছাত্র/ছাত্রী জে,ডি,সি, দাখিল, আলিম, ফাযিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কর্মমূখী শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষা আর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতীর কল্যানে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
“ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা”
১।ফাযিল শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগ খোলা।
২। ভোকেশনাল কোর্স খোলা হবে।
৩। কামিল ও অনার্স কোর্স চালু করা হবে্
৪। ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য পৃথক আবাসিক বহুতল ভবন নির্মান।
৫। শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মান করা।
৬। ১০০০ হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম নির্মান।
৭। শ্রেণী কক্ষ গুলিকেআধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা।
৮। বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাবকে গবেষণা উপযোগী করে সমৃদ্ধ করা হবে